Thursday, July 2, 2026

জোছনাভেজা দিনলিপি

 

[একটি কালভার্ট, একফালি চাঁদ আর থোকা-থোকা ভালোলাগা]

০২ জুলাই ২০২৬; বৃহস্পতিবার; রাত ১:৪৫ টা 

আজকের রাতটাকে লিখে না রাখলে অন্যায় হতো।
কিছুদিন আগেও আমার সবুজ ছোট্ট গ্রামটা বন্যার পানিতে প্রায় ডুবে ছিল। সেই পানিই আজ পূর্ণিমার জোছনায় রূপ বদলে ফেলেছে। মনে হচ্ছে, প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সব দুঃখ ধুয়ে তার ওপর সাদা আলো বিছিয়ে দিয়েছে।
গ্রাম থেকে মেঠোপথ ধরে একটু দূরের ছোট্ট একটি কালভার্টে এসে বসেছি। হিমেল বাতাসে বাবরি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে। সামনে যতদূর চোখ যায়, হাঁটু-সমান পানিতে ভরা মাঠ। পূর্ব আকাশে থালার মতো পূর্ণ চাঁদ, আর সেই চাঁদের আলো পানির বুকে নেমে এসে পুরো গ্রামটাকে রূপালি নীরবতায় মুড়ে দিয়েছে।
পানির বুক থেকে ভেসে আসছে ব্যাঙের ডাক। রাস্তার দু'ধারে ঝিঁঝি পোকার একটানা সুর। দূরের সড়কে সারিবদ্ধ গাড়ির আলোগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, রাত নিজের জন্য কোনো শব্দ করছে না; প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণী মিলে তার হয়ে কথা বলছে।
মাঠের মাঝখানে একজন মানুষ হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে মাছ ধরছেন। তাঁর ছোট্ট লাইটের আলো আর জোছনা মিলে এমন এক দৃশ্য তৈরি করেছে, যা কোনো ছবিতে পুরোপুরি ধরা যাবে না।
এমন মুহূর্তে খুব বেশি কিছু ভাবতে ইচ্ছে করে না। শুধু মনে হয়, সুখ আসলে খুব সাধারণ জায়গায় লুকিয়ে থাকে। একটা ছোট্ট কালভার্ট, একফালি পূর্ণিমা, হিমেল বাতাস, ঝিঁঝি পোকার ডাক, আর জোছনায় ভেসে থাকা জলমাখা মাঠ— এতেই তো একটা রাত মনে রাখার মতো হয়ে যায়।
আজ বুঝলাম, প্রকৃতি কখনো শুধু দৃশ্য দেখায় না; সে মানুষকে নিজের ভেতরটাও দেখিয়ে দেয়।
ফিরে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো চারদিকে তাকালাম। মনে হলো, আজ সত্যিই চারদিকে থোকা থোকা ভালো লাগা ফলেছে। আমি শুধু তার নিচে বসে ছিলাম, নীরবে, অনেকটা সময়।

খাতা-মধুপুর (কবিরাজপাড়া); সৈয়দপুর, নীলফামারি।
(নিজ গ্রাম)

No comments:

Post a Comment

জনপ্রিয় আর্টিকেলগুলো দেখুন...

জোছনাভেজা দিনলিপি

  [একটি কালভার্ট, একফালি চাঁদ আর থোকা-থোকা ভালোলাগা] ০২ জুলাই ২০২৬; বৃহস্পতিবার; রাত ১:৪৫ টা  আজকের রাতটাকে লিখে না রাখলে অন্যায় হতো। কিছুদ...