Posts

Showing posts from September, 2023

পাকুরতলে সোনালি দুপুর

Image
    আমার কৈশোরের দিনগুলোর বিশাল একটা অংশ এখানেই লুকিয়ে আছে। শীতের সকালে খালি পাায়ে ছুটে আসতাম এই পাকুরতলীতে। এসে দেখতাম, পাখিরা কিচিরমিচির রবে পাকুরের ঘুম ভেঙে দিয়েছে। ততক্ষণে পূর্বাকাশ রক্তিম হয়ে উঠেছে। শিশিরভেজা সবুজ ঘাসে সোনালী রোদ হেঁসে উঠেছে। গ্রীষ্মের অলস দুপুরে মা যখন ঘুমোতে বলতো— মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছুটে আসতাম পাকুরতলীতে। পাশ্বের গ্রামের রাখাল ছেলেদের ঘুড়ি উড়া, লুডু, পাইতা আরও নাম না জানা নানান খেলা দেখতাম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল কাটিয়ে সবাই যখন বাড়ি ফিরতো, পাকুরতলীতে আনমনা হয়ে কি যেন ভাবতাম। দেখতাম, দূরের পল্লি থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে আসছে এই পাকুর গাছে। কিচিরমিচির রবে মাতিয়ে তুলতো পাকুর গাছটা। যেন সারাদিনের কর্মবিবরণী বলে দিচ্ছে পাকুরকে। গোধূলিলগ্নে পূর্বাকাশ যখন রক্তিম হয়ে আসতো, বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে দেখতাম— সূর্যের লুকোচুরি। চারদিকে যখন অন্ধকার হয়ে আসতো, খানিক দূরে তাকিয়ে দেখতাম— কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে দেখতাম, সে আমার 'মা'। আমাকেই খুঁজেফিরে এখানেই এসেছে। আজ এই অনুভূতীগুলো এই ইট-পাথরের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী হয়ে আছে!

মৃত্যুর অনুভূতি

Image
ঈদুল আযহার রাতের কথা। আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম। তাই মশারী টানিয়েই শুয়ে পড়লাম। গরম ছিলো খুব কিন্তু, পাখা ছাড়তে মনে ছিলো না। মশারির ভিতরে দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়, ঘামে যাকে বলে একেবারে গোসল! ক্লান্তি এত ছিলো যে,মশারি থেকে বের হতে মন চাচ্ছে না, কিন্তু উপায় কী! আগত্যা বের হলাম এবং পাখা ছেড়ে এসে শয়ন করলাম; শান্তি লাগলো এবং আরামের ঘুম হলো। ঘুমের আগে চিন্তা হলো, এই মশারি তো কবরেরই নমুনা! যদি আগে থেকেই আরামের ব্যাবস্থা করে ঢুকতাম, এতো কষ্ট হতো না। তদ্রূপ কবরে যদি আগে থেকেই ব্যাবস্থা না করে যাই তাহলে তো কষ্টের শেষ থাকবে না! মশারি থেকে তো বের হতে পেরেছি, তাই কষ্ট হলেও তা দূর করা গেছে; কিন্তু কবর থেকে তো বের হওয়া যাবে না! বাইশ/সাত/বাইশ

স্বপ্নপোড়ার গন্ধ!

Image
বঙ্গ মার্কেট, ঢাকা বাইতুল মোকাররমে জুমা পড়ে, মেরাজ ভাইসহ বঙ্গবাজারের দিকে যাচ্ছি। গুগলম্যাপ বেরকরে মেরাজ ভাই বললেন- আযীয ভাই, বঙ্গবাজার একসময় 'হকার্স মার্কেট' ছিলো; সেই থেকে দেশের 'সর্ববৃহৎ পাইকারি কাপড়ের মার্কেট' হয়ে উঠেছিলো। এখানের 'পাইকারি কাপড়' বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে সেল হতো। রোজার প্রথম ভাগেই ব্যবসায়ীরা গুদাম স্টক করে রাখতেন; যা অন্য সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ছিলো। রকমারি, বাহারি কাপড়ের প্রাণকেন্দ্র ছিলো এটি। ঈদ উপলক্ষে ভীড় লেগেই থাকতো বঙ্গবাজারে। প্রতিদিন  হাজারো ব্যবসায়ী ছুটে আসতো এখানে... মেরাজ ভাইয়ের কথাগুলো শুনছি আর কল্পনায় যেন অবলোকন করছি। গুলিস্তানের 'সড়ক পাতাল মার্কেট' -এ পৌঁছানোর পর  মেরাজ ভাই বললেন, পাতাল মার্কেট দিয়ে রাস্তার ওপারে যেতে হবে। আমি অবাক হলাম যে, এমন পিচঢালা কংক্রিটের রাস্তার নীচে কিভাবে শতো শতো দোকান সাজানো হয়েছে!  কৌতুহলী চোখজোড়া নিয়ে পাতালপুরীতে ডুবলাম। নীচে নামার পর মনেহওয়া তো দূরের কথা কল্পনাও হলো না যে, এই মার্কেটের উপরে শতো শতো বাস ও ট্রাক অবিরাম ছুটছে... গুলিস্তান ফ্লাইওভারের মোড় ঘুরতেই কাপড়পোড়ার ঝাঝাঁলো গন্ধ শুকতে পেলাম। ...

তাড়াহুড়ো নয়, ধীরস্থির হউন!

Image
বার্ষিক পরীক্ষার দিনগুলো... বার্ষিক পরিক্ষা চলছে। মাগরীবের নামাজ পড়ে পড়তে বসেছি। কয়েকপৃষ্ঠা পাতা উল্টানোর পর, মাথায় যেন কিছুই ঢুকছে না। খুব ঘুম ঘুম লাগতেছে। একটু পড়তেছি তো ঝিমুচ্ছি। শরীরটা ঘর্মাক্ত হয়ে উঠেছে। কপালে ঝিরিঝিরি ঘাম জমতেছে। কি পড়তেছি নিজেও বুঝতেছি না। চোখ দু'টো নিজ থেকেই বুজে আসতেছে। ভাবলাম, এশা পর্যন্ত একটু ঘুমিয়ে নেয়া যাক্। এশার নামাজ পড়েই পড়তে বসবো। এলার্ম-ঘড়িটা কানের কাছে নিয়ে শুয়ে পড়লাম। ...ক্রিংক্রিংক্রিং তাড়াহুড়ো করে এশার নামাজ পড়ে, পড়ার টেবিলে আসলাম। যারপরনাই আগ্রহ ও মনোযোগ দিয়ে পড়তেছি। সবেমাত্র দু'একপৃষ্ঠা পড়েছি কি-না- ঝিমুনি যেন ঝাপটে ধরতে চাচ্ছে। লম্বা একটা হাই তুলে- টেবিলের পার্শ্বে রাখা মামপটের পানিগুলো, কয়েক ঢোকে গিলে নিলাম। পাঞ্জাবীর হাতা মুড়িয়ে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছি। বইয়ের কালো হরফগুলো ঝাপসা লাগতেছে। চশমার গ্লাসগুলো মুছে নিয়ে নবোদ্দমে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছি। দু'পৃষ্ঠা পড়লাম কি-না... (!) বইয়ের পাতাগুলো অস্পষ্ট লাগছে। শরীরটা ক্রমশঃ ছাড়িয়ে দিচ্ছে। চক্ষুদ্বয় বুজিয়ে আসছে। পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছে।  একটু নড়েচড়ে বসলাম। কপাল ভাঁজ করে পূর্ণোদ্দমে পড়ার চেষ্টা কর...

গ্রামের বটগাছটি!

Image
[শতবর্ষী বটগাছ] আমাদের গ্রামের বাড়ীর পাশে বিশাল বিস্তৃত আবাদি ভূমি। তার মাঝ দিয়েই বয়ে গেছে পায়ে হাঁটা প্রশস্ত খোলা পথটি। পথের পাশেই বিরাট একটি শতবর্ষী বটগাছ। গ্রীষ্মের আলস্য দুপুরে ছাতিফাটা রোদ যখন খাঁ খাঁ  করে—গায়ের চাষীরা মাঠের কাজ ফেলে ক্লান্ত দেহে তার ছায়ায় আশ্রয় নেয়। তখন তাদের দেখে মনে হয়, সেটা এক আশ্রয়কেন্দ্র। পথিকরা তার ছায়ায় একটু জিরোয়। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঝেড়ে ফেলে পথের ক্লান্তি— এ যেন এক পান্থশালা। গাঁয়ের রাখাল ছেলেরা আসর জমায়— লুডু, পাইতা আরও নাম না জানা নানা খেলায়। বটমূলে ভীর জমায় গায়ের সাধারণ মানুষগুলোও। গোধূলিলগ্নে সূর্য্যের আলো যখন নিভে যায়, দলে দলে পাখির ঝাঁক উড়ে আসে, উদরপূর্তি করে। কিচিরমিচির রবে মুখরিত হয়ে উঠে আশপাশ। মনে হয়, সারাদিনের কার্যবিবরণী বলে দেয় বটগাছকে। এ যেন তাদের মিলন মেলা। আমার কেবল ইচ্ছে জাগে— আমি যদি হতাম বটগাছ কিংবা বটমূল! আমারও যদি থাকতো বিশাল বিস্তৃত ছায়া! মানুষ আমার ছায়ায় আশ্রয় নিতো কিংবা ক্লান্ত পথিক একটু দাঁড়াত! সন্ধ্যে নামার আগেই পাখিরা আশ্রয় নিতো! সবকিছুই বিসর্জন দিতে পারতাম পরকল্যাণে! বাইশ/বারো/একুশ