দালানবাড়ির গল্প
ধানক্ষেতের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীণ দু'টি দালানবাড়ি গ্রামে এসেছি দু’দিন হবে। সকালের খাবার খেয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। ঘন গাঢ় নীল আকাশের বুক চিরে ভেসে যাচ্ছে সাদা মেঘ। মেঘের ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে সূর্য্যিমামা। বাড়ির গেট পার হতেই মা চেঁচিয়ে বললেন, “রৌদ্রে কোথাও যাস্ না।” আমিও চেঁচিয়ে বললাম, “এ-ই আসছি!” —বলেই বাহিরে বেরিয়ে এলাম। আমাদের গ্রামের গা ঘেঁষে বয়ে গেছে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। পথের পাশে পুকুর। পুকুরপাড়ে শিমুল, খেজুর, হিজল, কাঁঠাল ও সজনেগাছ। পুকুরের ওপাড়ে ধানক্ষেতের বুক চিরে— মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচশত বছরের প্রাচীন দু'টি দালানবাড়ি। আমি পথে বেরিয়ে পড়লাম। রাখাল ছেলেরা গরু-ছাগল নিয়ে যাচ্ছে মাঠে। রাস্তার পাশে কদম ও আকাশমণিগাছের সারি। আমি পুকুরপাড়ে এসে বসলাম। একটি মাছরাঙা ঠোঁটে মাছ তুলে শিমুলের ডালে গিয়ে বসলো। পুকুরের জলে রোদের কিরণ লেগে চিকচিক করছে। মাঝে-মাঝে মৃদু বাতাসে ধানক্ষেত থেকে ভ্যাপসা গন্ধ ভেসে আসছে। ছোট্ট একটি ফড়িং দেখে— হাত বাড়ালাম, টের পেয়েই ফড়িংটি ছুটে গেলো ধানক্ষেতে। আমিও নেমে গেলাম আলপথে। আমার পায়ের শব্দে দিগ্বিদিক ছুটছে অসংখ্য ঘাসফড়িং। একটি কোমল স্পর্শে দাঁড়িয়ে ...